বিজনেসে টিকে থাকার কৌশল
.
.
ব্যবসা করতে গেলে অনেকেই কমন কিছু সমস্যায় পতিত হয়। সেগুলি এভয়েড করার সিস্টেম বলে দেবো। ব্যবসা যেখানেই হোক এই কৌশল দারুণভাবে খাটাতে পারবেন। চোর বাটপার থেকে নিজের ব্যবসাকে নিরাপদ রাখতে পারবেন।
১. যেদিন থেকে কাজ শুরু করবেন ওই মুহুর্ত থেকে বাকির প্রশ্ন সচেতন থাকবেন। কোনভাবেই বাকি দিবেন না। যত পেয়ারের লোকেরাই আসুক, বাকি বা ধারে পণ্য বিক্রি করা হারাম মনে করবেন।
- বাকি না দেয়ার প্রশ্নে কিছু সহজ কৌশল ব্যবহার করুন। আন্তরিকভাবে বলুন, বিজনেস আপনার নয়, দিনশেষে প্রতিটি হিসাব বুঝিয়ে দিতে হয়।
- ছোট ব্যবসা। লাভ কম। বাকি দিলে দোকান ভাড়া উঠাবেন কিভাবে?
- কিছু লোক বলে থাকে টাকা আনতে ভুলে গেছি, এখুনি টাকা দিয়ে যাচ্ছি। স্বহাস্যে বলুন, টাকা এনে একবারেই পণ্যটা নিয়ে যাবেন। মনে রাখবেন, এরা সচেতনভাবেই বাকি নিতে আসে। এরা বাটপার শ্রেণীর লোক। আপনার ব্যবসা যখন কয়েক মাস পুরাতন হবে তখন নির্দিষ্ট কিছু লোক, যাদের ভরসা করা যায়, তাদের বাকি দিবেন। তবে এমাউন্ট যেন বেশি না হয়।
২. পণ্যের মান যত ভালোই হোক, সাধারণ প্যাকেটের পণ্য দোকানে রাখবেন না। লোকেরা কেবল আকর্ষণীয় প্যাক দেখে পণ্য কিনতে চায়। তারা মূলত পণ্য নয় ইমোশন ক্রয় করে। তারা যদি পণ্য কিনতো তাহলে রঙচঙে প্যাকেট না দেখে পণ্যের মানের ব্যাপারে সচেতন হতো।
৩. শান্তভাবে কথা বলুন। কাস্টমার আপনাকে যদি খাটাশ মনে করে পরেরবার আসবে না। শান্ত ও হেসে জবাব দিন।
৪. আপনার দোকানের সব পণ্য ভালো এটা আপনি জানেন। কিন্তু কাস্টমার যখন চয়েজ খুঁজবে তাকে বেটার পণ্য অথবা দুটোই ভালো হলে যেকোন একটা এমনভাবে সাজেস্ট করুন যেন তিনি ভরসা পান, তখন তিনি কিনবেন। পণ্যের দাম জানতে চাইলে শুধু দাম না বলে এর ছোট বিবরণ দিন। বেশিরভাগ সময় সেল চলে আসবে।
৫. আশেপাশের সব ব্যবসায়ীদের সালাম দিন, তারা দোকানে এলে টুকটাক খবর নিন। কিন্তু গল্প বড় করবেন না কোনভাবেই। নয়ত এরা বাকি চাইবে। সম্পর্ক যত গভীর হবে তার কাছে ঠকার চান্স বাড়বে। কাস্টমারের ব্যাপারেও একই কথা। পণ্য বিক্রি বাদে কোন বাড়তি গল্প করবেন না। চোর-ছ্যাচড়ের সংখ্যা বাড়বে।
৬. আপনি সচেতনভাবে কাস্টমারকে যদি না ঠকান, দিন দিন কাস্টমার বাড়বে। একটু অপেক্ষা করুন, খ্যাতি ছড়িয়ে যাবে।
৭. আপনি যদি বাকি দেয়া থেকে বিরত থাকেন, সেল একটু কম থাকলেও যা বিক্রি হবে তাই লাভ তুলবেন। মাসের শেষে বাকির খাতা খুঁজতে হবে না।
৮. কাউকে একবার বাকি দিয়েছেন মানে ওই কাস্টমারকে কিক দিয়ে তাড়িয়ে দিলেন। যদিও সে পরেরবার বা দ্রুত টাকা শোধ করবে। তবে পরেরবার সে আরো বেশি বাকি পাওয়ার আশা করবে। তখন না দিলেই পাখি উড়ে যাবে।
৯. ডিলারদের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখুন। মাঝে মাঝে পাঁচ টাকার চা খাওয়ান। তারা আপনাকে সেরা পণ্য অফার করবে এবং বাজারে যত গিফট আসবে সেখানে আপনার নাম থাকবে।
১০. কোন কোম্পানি যদি নষ্ট মালামাল ফেরত নিতে গরিমসি করে তাহলে সেগুলি জমিয়ে রাখুন। পরেরবার যখন আবার মাল আসবে তখন নতুন মাল আটকে নষ্টগুলি ফেরত দিন। টাকা আটকে দিলে মাল ফেরত নিতে বাধ্য।
১১. একই পণ্যের পাঁচরকম দাম হয় তাই সবচেয়ে কম দামে পণ্য পেতে অপেক্ষা করুন। কোন না কোন ডিলার আপনার কাছে আসবে। অস্থির হওয়া চলবে না।
১২. বাড়তি আয় করতে যারা বিকাশ, নগদ, রিচার্জ সার্ভিস দেন, কখনোই আগে টাকা পাঠাবেন না। নাম্বার তুলুন, টাকা পাঠিয়ে দেওয়ার আগে টাকা হাতে নিয়ে গুণে, চেক করুন। কাস্টমার যদি বলে, ব্যালেন্স পাঠান, টাকা দিচ্ছি, কথা শুনবেন না। ফ্রড লোকেরা তাড়া দেখায়। যেহেতু নগদ অর্থের লেনদেন সতর্কভাবে কাজ করুন। তিন টাকা লাভের জন্য এক হাজার টাকা যেন ভুলদিকে চলে না যায়। মিনিট কার্ড, এমবি কার্ড রাখুন। কাস্টমার বাড়বে।
১৩. অনেক সময় পুরাতন, ছেড়া নোট চলে আসে। সব কাস্টমারকে এসব নোট দিবেন না। শুনতে খারাপ লাগলেও শ্রমজীবী খেটে খাওয়া শ্রেণীরা এসব নোট আপনাকে বেশি দিবে। পাঁচটা নোটের সাথে একটা পুরাতন নরম নোট ফেরত দিন। নতুন নোটের সাথে ছেড়া নোট দিলে সেটা বদল করতে চাইবে। ভালো ও ছেড়া নোট আলাদা রাখুন, কাস্টমার বুঝে চালিয়ে দিন। ব্যবসা করতে বসেছেন, সবাইকে ডিল করতে হবে।
১৪. অন্যান্য ব্যবসায়ীদের মাঝে নিজেকে সাধু সন্ন্যাসী পর্যায়ে নিবেন না। কারো সাথে খারাপ ব্যবহার না করলেও তারা যেন বুঝে আপনাকে নাড়ালে সমস্যা হবে, তেমনভাবে থাকুন। এতে অহেতুক সমস্যা তৈরী হবে না।
১৫. দ্রুত কাস্টমার শ্রেণী তৈরী করতে নির্দিষ্ট কিছু পণ্য এমআরপি রেট থেকে ২-৫ টাকা কম রাখুন। কখনো লাভ হয়ত সীমিত হবে তবে সেই কাস্টমার আরো পণ্য কিনে লস পুষিয়ে দিবে।
আরো কোন কৌশল জানা থাকলে কমেন্টে এড করুন।
আপনি যদি মাঝারি ব্যবসা করতে চান কিন্তু পুঁজি কম থাকে, তাহলে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছোট ব্যবসা করুন। পুঁজি বানান। তারপর ব্যবসা শিফট করুন। ততদিনে কৌশল জানা হবে। দুনিয়ার কোন ব্যবসায়ী শুরুতেই গাড়ি, স্যাটেলাইট, জুতার ব্যবসা খুলে বসেনি। জুতার কারিগর ছিল মুচি। কাজকে ছোট করে দেখলে কোনদিন ব্যবসায়ী হতে পারবেন না। যাকে দেখে নাক শিটকাচ্ছেন, কাল হয়ত তার