আকাবির-কথন
الذهاب إلى القناة على Telegram
إظهار المزيد
لم يتم تحديد البلدالفئة غير محددة
1 215
المشتركون
+524 ساعات
+277 أيام
+4230 أيام
أرشيف المشاركات
1 215
শাইখুল হাদীস মাওলানা আবরারুজ্জামান পাহাড়পুরী হুজুরকে একজন দুইটা নসিয়ত করার জন্য বলেন। তখন হুজুর বলেন, যার সারমর্ম হলো—
আমাকে হুকুম করেছেন দুইটা নসিহত করার জন্য। তো দুইটা নসিহত করি।
এক নম্বর নসিহত হলো:
যখনই দোয়ার মধ্যে হাত তুলবো, মোনাজাতের মধ্যে, অন্তত পাঁচ মিনিট দোয়া করবো। সর্বনিম্ন পাঁচ মিনিট। দোয়ায় হাত তুললে শয়তান কিন্তু একটা ওয়াসওয়াসা তৈরি করে। ওয়াসওয়াসাটা হলো কিছুক্ষণ দোয়া করলেই মনের মধ্যে একটা হালাত আসে যে দোয়া কবুল হয়ে গেছে, এবার হাত নামায় ফেলো। দোয়া কবুল হয়ে গেছে, হাত নামায় ফেলো। দোয়া লম্বা সময় করতে দিবে না।
এজন্য দোয়ার আগে একটা নিয়ত করে দোয়া শুরু করবো, যখন সময় থাকে তখন। অন্তত পাঁচ মিনিট। এটা এক নম্বর নসিহত।
দ্বিতীয় নসিহত হলো:
যখন রাস্তা দিয়ে হাঁটবো, নজরকে রাখবো নিচের দিকে, পায়ের দিকে।
আল্লাহ তাআলা দুইটা নসিহতের উপর আমল করার তৌফিক দান করেন। আমিন।
1 215
তার কাছের লোকেরা বলেছিল, ইউসুফকে মেরে ফেলো। (সুরা ইউসুফ, ১২:৯)
আবার একেবারে অচেনা এক লোক তার স্ত্রীকে বলেছিল, তাকে (ইউসুফকে) সম্মানের সাথে রাখো। (সুরা ইউসুফ, ১২:২১)
ভালোবাসা হচ্ছে রিজক। আর তুমি জানো না কার হৃদয়ে তোমার জন্যে রিজক রয়েছে।
© তাজুল ইসলাম
1 215
এক বন্ধুর বাসায় গিয়েছিলাম। ড্রয়িংরুমে কিছুক্ষণ বসার পর সে তার সাত মাস বয়সী মেয়েকে নিয়ে ঢুকলো। কোলে নেয়ার জন্য হাত বাড়ালাম, আসবে না। মুখ দিয়ে কত অঙ্গভঙ্গি করলাম, আদর করে ডাকলাম, কিছুতেই আসবে না। কেমন যেন ভয়ের চোখে তাকিয়ে আছে। অপরিচিত মানুষ দেখলে বাচ্চারা যেমন করে আর কি। এরপর যেই না জোর করে কোলে নিতে গেলাম, চিৎকার করে কেঁদে উঠলো।
মেয়ের বাবা আদর করল, ধমকও দিল। এত ভয় পাবার কি আছে? কিন্তু ধমক খেয়েও সে বাবার কোলেই থাকবে, আমার কোলে আসবে না।
২)
ফেসবুকে পরিচিত এক দ্বীনি ভাইয়ের সাথে কথা হচ্ছিল সেদিন। তিনি তার ছোট ভাইয়ের ব্যাপারে বলছিলেন। উমরা করে এসে সম্পূর্ণ পরিবর্তন হয়ে যান। দাড়ি রাখেন, নিয়মিত নামাজ পড়া শুরু করেন। কথা বার্তা আচার আচরণ সব কিছুতেই তার আমূল পরিবর্তন আসে। উমরা থেকে এসে এক বছর পর বিয়ে করেন। একটি ছেলেও হয়। সব কিছু বেশ ভাল ভাবেই চলছিল।
কিন্তু বছরখানেক ধরে তার জীবনে একটার পর একটা বিপদ আসছে। প্রথমে তার ব্যবসায়িক পার্টনার তাকে ধোঁকা দেয়। যার কারণে অনেক বড় অঙ্কের টাকা লোকসান হয়। এর কিছুদিন পর এক্সিডেন্ট করে পা ভেঙ্গে ফেলেন। আর সর্বশেষ মাসখানেক আগে তার একমাত্র ছেলেটি মারা যায়।
এসব শুনে কিছু বলার মত ভাষা ছিল না। তারপরও জিজ্ঞেস করলাম, আপনার ভাইয়ের এখন কি অবস্থা। একদম তো ভেঙ্গে পড়ার কথা। তিনি জবাব দিলেন, না ভাই! আল্লাহর রহমতে যথেষ্ট স্বাভাবিক আছে। একটা সময় ছিল, যখন আমার এই ভাইয়ের আচার আচরণের কারণে আমরা কেউ মুখ দেখাতে পারতাম না। আর এখন ওর কাছেই আমরা ঈমানের দৃঢ়তা শিখি। এত বড় বড় বিপদের পরও বলে, আল্লাহই বিপদ দেন, তিনিই এর প্রতিদান দিবেন।
------------
ঘটনা দুটোর মাঝে কি কোন মিল আছে? হয়তো আছে।
একটি ছোট বাচ্চা, কথা বলা শেখার আগেই পরিচিত ও অপরিচিতের মাঝে পার্থক্য করতে শিখে। তার কাছে মনে হয়, তার পরিচিত মানুষটি ধমক দিলেও, সে তার আপন। তাকে ভয় পাবার কিছু নেই। আর অপরিচিত কেউ আদর করলেও তাকে সে ভয় পায়, ইনসিকিউর ফিল করে।
ঠিক একই ভাবে, একজন প্রকৃত ঈমানদারও তার আপনকে চিনে। সে জানে এ জগতে তার সবচেয়ে আপন তার রব, তার মালিক। পৃথিবীর সবাই তাকে ভুলে গেলেও তিনি তাকে ভুলবেন না। তিনি যদি তাকে বিপদে ফেলেন, তিনিই তাকে উদ্ধার করবেন। তিনি যদি তার কাছ থেকে কিছু নিয়ে যান, তিনিই এর থেকে উত্তম কিছু তাকে দিয়ে দিবেন।
আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী কারিম (স.)-এর কাছে ছিলাম, তখন তিনি ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। আমি তার ওপর আমার হাত রাখলে তর গায়ের চাদরের ওপর থেকেই তার শরীরের প্রচণ্ড তাপ অনুভব করলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! কত তীব্র জ্বর আপনার। তিনি বলেন, আমাদের (নবী-রাসুলদের) অবস্থা এমনই হয়ে থাকে। আমাদের ওপর দ্বিগুণ বিপদ আসে এবং দ্বিগুণ পুরস্কারও দেওয়া হবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! কার ওপর সর্বাধিক কঠিন বিপদ আসে? তিনি বলেন, নবীদের ওপর। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! তারপর কার ওপর? তিনি বলেন, তারপর নেককার বান্দাদের ওপর। তাদের কেউ এতটা দারিদ্র্যপীড়িত হয় যে, শেষ পর্যন্ত তার কাছে তার পরিধানের কম্বল ছাড়া আর কিছুই থাকে না। তাদের কেউ বিপদে এত শান্ত ও উৎফুল্ল থাকে, যেমন তোমাদের কেউ ধন-সম্পদ প্রাপ্তিতে আনন্দিত হয়ে থাকে। (ইবনে মাজাহ: ৪০২৪)
তাই মু’মিন হতাশও হয় না, হীনমন্যতায়ও ভুগে না। বিপদ তার ঈমানকে আরও বাড়িয়ে দেয়। কষ্ট তাকে করে আরও শক্তিশালী
© মাওলানা রিযওয়ানুল কবীর
1 215
এদিক-সেদিক ছোটাছুটি না করে কুরআনকে যথার্থভাবে আঁকড়ে ধরো। কারণ, কুরআন হচ্ছে আমাদের জন্য পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। সান্ত্বনা ও স্বস্তি লাভের একমাত্র স্থান। যে এর ওপর আমল করবে তার সামনে উন্মুক্ত হয়ে যাবে পৃথিবীর সব ধরনের জ্ঞানভান্ডার। তাকে অবহিত করা হবে শ্রেষ্ঠ উম্মত বলে। যাদের উদ্দেশ্য মানুষকে অসৎপথ থেকে সৎপথে নিয়ে আসা।
[কুরআন অনুধাবন : পদ্ধতি ও সতর্কতা, ১৪৬]
1 215
মাসলামা ইবনে আবদুল মালেক (৬৬হি. ১২১ হি.) এক যুদ্ধে একবার একটা দুর্গ ঘেরাও করলেন। দুর্গের দেয়ালে একটা ছিদ্র ছিল। ওই ছিদ্র দিয়ে ঢুকে কেউ যদি দরজা খুলে দিতে পারে তাহলে দুর্গটি জয় হয়ে যায়।
তিনি উপস্থিত সৈন্যদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, কে আছ এই ছিদ্র দিয়ে প্রবেশ করে ফটকের দরজা খুলে দিবে? কেউ দাঁড়াল না। তারপর অপরিচিত এক সৈন্য এসে ছিদ্র দিয়ে প্রবেশ করে দরজা খুলে দিল। এবং দুর্গটি বিজিত হলো।
বিজয়ের পর মাসলামা ঘোষণা দিলেন, ছিদ্র দিয়ে প্রবেশকারী যুবকটি কোথায়? কেউ এল না। তিনি রক্ষীকে নির্দেশ দিলেন, যখন যুবকটি আসে তাকে যেন অবশ্যই তার সামনে উপস্থিত করে।
কিছুক্ষণ পর রক্ষীর নিকট এক লোক এসে বলল, আমি কি আমীরের সাক্ষাৎ পেতে পারি? রক্ষী জিজ্ঞেস করল, তুমি কি সেই ছিদ্র দিয়ে প্রবেশকারী যুবক? লোকটি বলল, আমি তোমাদেরকে সেই যুবক সম্পর্কে সংবাদ জানাতে পারি। রক্ষী তাকে মাসলামার সামনে নিয়ে গেল।
মাসলামা জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি সেই ছিদ্র দিয়ে প্রবেশকারী যুবক? লোকটি বলল, ছিদ্র দিয়ে প্রবেশকারী যুবক তিন শর্তে তোমাদের সামনে আসতে রাজি হয়েছেন :
এক. তার নাম লেখা যাবে না।
দুই. তাকে কোনো পুরস্কার দেওয়া যাবে না।
তিন. তার বংশ-পরিচয় জানতে চাইবে না।
মাসলামা তিন শর্ত মেনে নিলে যুবকটি বলল, হ্যাঁ, আমিই সেই ছিদ্র দিয়ে প্রবেশকারী যুবক।
এরপর থেকে মাসলামা প্রত্যেক নামাযের পর এই বলে দোয়া করতেন, হে আল্লাহ, আমাকে ওই ছিদ্র দিয়ে প্রবেশকারী যুবকের সাথে রেখো।
[তালেবে ইলমের জীবন গড়ার পাথেয় : ১৩-১৪]
1 215
আমরা এখন আর আমাদের দীন জানার চেষ্টা করি না, আমাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর কথা ভাবি না এবং এই বিস্ময়কর পৃথিবী নিয়ে চিন্তা করার মতো সামান্য সময়ও রাখি না। আমরা এতটা ব্যস্ত থাকি, এতটা গিলতে থাকি অনুভূতি বা তথ্যের ভান্ডার, যার বেশিরভাগই আমাদের কোনো উপকারে আসে না! ফলে আমাদের চিন্তার জগৎ ক্রমেই সংকীর্ণ হয়ে পড়ছে।
আপনি এসব বিভ্রান্তির উৎসগুলো থেকে নিজেকে সরিয়ে নিন। যা সত্যিই প্রয়োজনীয় ও উপকারী, তার জন্য আপনার মস্তিষ্ক ও হৃদয়ে স্থান তৈরি করুন।
আমরা কোনো কম্পিউটার না, যার মেমোরি বা প্রসেসর আপগ্রেড করা যায়। আমাদের মস্তিষ্কের একটা সীমা আছে, সেই সীমার মধ্যে কী রাখব, সেটা বেছে নেওয়ার দায়িত্বটা একান্তই আমাদের।
আপনি জীবনের একটি স্পষ্ট পরিকল্পনা সাজান। আপনি কী হতে চান? কোন পথে হাঁটতে চান? আপনার হয়তো সময় কম, তবুও তাড়াহুড়ো করবেন না। শান্তভাবে ভাবুন, কোন তথ্য ও কোন বিষয় আপনার প্রয়োজনীয় ও উপকারী। সিদ্ধান্ত নিন, ঠিক কোন মানুষদের কথা আপনি শুনবেন।
এই বিশ্ব এক বিশাল গ্রন্থ, যার প্রতিটা পাতায় কিছু না কিছু শেখার আছে, কিন্তু সব একসাথে পড়া যায় না।
[ডোপামিন : ১১৬]
1 215
এটাই ফাইনাল কি না জানি না। আমার ভালোই লাগছে। বইটাও দারুণ।
তানযীল ভাইয়ের এসব কাজ দারুণ। আমি চাইব তিনি যেন তাবলীগওয়ালাদের মালফুয ও বয়ান নিয়ে আরও কাজ করেন।
উমেদ/দারুল ফিকর থেকে আসবে। আসামাত্রই সংগ্রহ করে নিয়েন।
1 215
+2
ছবিগুলো দারুণ লাগে। আপনার সংগ্রহে যদি সুন্দর সুন্দর ছবি থাকে, তাহলে শেয়ার করতে পারেন আমার সাথে।
1 215
নেক কাজের তাওফীক না হওয়া, সিদ্ধান্ত ভুল হওয়া, সত্য বিষয় অস্পষ্ট থাকা এবং অন্তরের বিনষ্টতা, যিকিরে শিথিলতা, সময়ের অপচয়, সৃষ্টিজীবের ঘৃণা, বান্দা ও তার প্রভুর মধ্যকার দূরত্ব, দুআ কবুল না হওয়া, অন্তর রূঢ় হওয়া, জীবন ও জীবিকার মাঝে বরকত না থাকা, ইলম থেকে মাহরুমী, লাঞ্ছনা ও শত্রুকর্তৃক অপদস্থতা অন্তরের সংকোচন, অন্তরকে বিনষ্ট করে ও সময়কে অপচয় করে এধরনের মন্দ সঙ্গীর পাল্লায় পতিত হওয়া, দীর্ঘ অস্থিরতা ও পেরেশানী, জীবনযাপনের সংকীর্ণতা, অন্তরের বিষণ্ণতা... এসব কিছু জন্ম লাভ করে গুনাহ ও আল্লাহর স্মরণ থেকে উদাসীনতার ফলে। যেভাবে ফসল জন্ম লাভ করে পানি থেকে এবং অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয় আগুন থেকে।
[মাওয়ায়েযে ইমাম ইবনুল কায়্যিম রহ. : ৩০-৩১]
