আকাবির-কথন
الذهاب إلى القناة على Telegram
إظهار المزيد
لم يتم تحديد البلدالفئة غير محددة
1 220
المشتركون
+424 ساعات
+347 أيام
+4630 أيام
أرشيف المشاركات
1 220
বিয়ের সময় মেয়ের প্রতি মায়ের অমর উপদেশ
.
উমামা বিনতে হারিস তার কন্যাকে বিয়ের প্রাক্কালে উপদেশ দিয়ে বলেন:
.
“হে আমার প্রিয় কন্যা!
.
তুমি আজ সেই চিরচেনা নীড় ছেড়ে যাচ্ছ, যেখানে তুমি বড় হয়েছ। প্রবেশ করছ এমন এক নতুন ঘরে, যা তোমার কাছে অপরিচিত। এমন এক জীবনসঙ্গীর সান্নিধ্যে যাচ্ছ, যার সাথে তুমি আগে পরিচিত ছিলে না।
.
অতএব, তুমি তার জন্য জমিনের মতো (নম্র ও সহনশীল) হও; তবে সে তোমার জন্য আকাশের মতো (উদার ও আশ্রয়দাতা) হবে।
.
তুমি তার জন্য বিছানার মতো (কোমল) হও; তবে সে তোমার জন্য স্তম্ভের মতো (দৃঢ় ও রক্ষক) হবে।
.
তার নজরের খেয়াল রেখো—সে যেন তোমার মাঝে অপ্রীতিকর কিছু না দেখে। তার ঘ্রাণেন্দ্রিয়ের যত্ন নিও—সে যেন তোমার কাছ থেকে সুবাস ছাড়া অন্য কিছু না পায়।
.
তার ক্ষুধার সময়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করো; কারণ তীব্র ক্ষুধা মানুষকে খিটখিটে ও রাগী করে তোলে। তার নিদ্রার সময় নিরবতা বজায় রেখো; কারণ ঘুমের ব্যাঘাত বিরক্তি সৃষ্টি করে।
.
তার সম্পদের যথাযথ হেফাজত করো এবং তার পরিবারের মর্যাদা রক্ষা করো।
.
কখনো তার গোপন কথা ফাঁস করো না এবং তার আদেশ অমান্য করো না। কারণ, তুমি যদি তার অবাধ্য হও, তবে সে তোমার প্রতি বীতশ্রদ্ধ হবে; আর যদি তার গোপনীয়তা প্রকাশ করে দাও, তবে সে তোমার ওপর আস্থা হারাবে।
.
সবশেষে মনে রেখো—তুমি যদি তার প্রতি অনুগত থাকো, তবে সে তোমার জন্য হবে সবচাইতে বিশ্বস্ত বন্ধু ও অতন্দ্র প্রহরী।”
.
● [আল-ইকদুল ফারিদ, ইবনু আব্দ রাব্বিহি | উয়ুনুল আখবার, ইবনু কুতায়বা]
1 220
অতীতকে বয়ে চলতে হয় না, তার থেকে জ্ঞান নিতে হয়৷ নতুবা অতীত জীবনের উপর শৃঙ্খল পড়িয়ে দিবে৷ ভবিষ্যৎ হল পরিকল্পনার জন্য, যার বাস্তবতা মানুষের অজানা৷ বর্তমানই হল আসল বাস্তবতা, বর্তমানের উপরই জীবন প্রবাহিত হয়ে চলে৷
তাই “অতীতকে ধরে রেখে যেমন ভবিষ্যত নষ্ট করার মানে হয় না, তেমনি ভবিষ্যতের জন্য বর্তমানকে নষ্ট করারও মানে হয় না৷”
অতীত বর্তমান ভবিষ্যত এগুলো হল সময়ের একটি সেতু৷ যার এক পাশে স্মৃতি, অন্য পাশে সম্ভাবনা৷ সম্ভাবনা ভাল না মন্দ হবে সেটা আমাদের মাঝখানের কর্মের উপর বর্তায়৷
যে অতীত থেকে শিক্ষা নেয় সে প্রজ্ঞাবান৷ যে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেয় সে দূরদর্শী৷ কিন্তু যে বর্তমানকে বাঁচতে ভুলে যায় সে চরম বোকা, কারণ সে জীবনের আসল মুহূর্তগুলোই সে নষ্ট করে ফেলে।
কবি বলেন;
অতীতের চোরাবালিতে ডুবতে চাই না আর,
ভবিষ্যতের মরিচিকায় থাকতে চাই না আর,
বর্তমানের আজান কাজা করতে চাই না আর৷
© মাহবূবুল মুরসালীন ভাই
1 220
ছবিটা দেখার পর বাচ্চাকালের 'আঁধার রাতের বন্দিনী'র কাল্পনিক খুবায়েব-সায়েমার কথা মনে পড়ে গেল।
বইটা পড়া হয়নি। পুরো বইটার সারমর্ম শুনেছিলাম চাচাতো বোনের কাছ থেকে। আগে তো অবসরে গল্প-উপন্যাস হলেও পড়ত। এখন হাতে হাতে মোবাইল এসে বই পড়া একেবারেই...
যাও দুয়েকজনের বই পড়ার ঝুঁক আসে, সেটাও অসময়ে। যখন মনমস্তিষ্ক থাকে বিক্ষিপ্ত, দুনিয়াবি ঝামেলা-পেরেশানি টালমাটাল, কিংবা সাংসারিক ঝামেলায় পড়ারই সময়-সুযোগ থাকে না।
1 220
আমাত-উল্লাহ তাসনিম (১৯০৮ – ১৯৭৬ ই.) হলেন শায়খ হাকিম সাইয়েদ আবদুল হাই হাসানির রহ. কন্যা এবং আবুল হাসান আলী নদভির রহ. বড় বোন। লেখালেখির দিকে তার গভীর আগ্রহ ছিল। ১৯২৬ সালে চাচাতো ভাই আবুল খায়ের হাসানির রহ. সঙ্গে তার বিয়ে হয় এবং স্বামীর উৎসাহে তার সাহিত্য রচনায় আগ্রহ বেড়ে যায়। তিন সন্তানের মা হয়েছিলেন তিনি, সবাই শৈশবেই মারা যান। তার বড় ভাই ড. আব্দুল আলী হাসানির রহ. পরামর্শে তিনি ইমাম নববির রহ. ‘রিয়াযুস সালিহীন’ উর্দুতে অনুবাদ করেন ‘জাদে সফর’ শিরোনামে এবং তা ব্যাপক সমাদৃত হয়। তিনি ‘বাচ্চু কা কাসাসুল আম্বিয়া’ নামেও ৫ ভলিউমের একটি গ্রন্থ রচনা করেন। ‘দিয়ারে হাবিব স.’ নবিজির শানে একটি কাব্যও রচনা করেছেন। ছবির বইটি বেরিয়েছে ‘মাকতাবাতুল আফনান’ থেকে, ২০১৭ সালে।
©
1 220
বইমেলা থেকে কী কী সিরাতের বই কিনলেন?
আশ্চর্য হলেও সত্য—এ-বছর বইমেলা উপলক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সিরাতগ্রন্থও প্রকাশ পেয়েছে। যা পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি এবং বিষয় বৈচিত্র্যেও অনন্য। মেলার স্টলে সবগুলি ছিল কি না জানা নেই। রকমারিতে নিশ্চয় ছিল। রকমারির হিসেবে ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে মার্চ ২০২২ পর্যন্ত প্রকাশিত সব বই এ-বছর বইমেলার বই।
বইমেলা ২০২২ ক্যাটাগরির সিরাতগ্রন্থগুলোর মধ্যে আমার লিস্টে মোট ৬০টি বই আছে।
৪টি বই নারীর হাতে লেখা। এবং বিস্ময়ের কথা হলো, সবক’টি মৌলিক।
১। নবীজি (সা.) : দ্য ব্লেসড ওয়ান, লেখক নীলা হারুন। প্রথম ভেবেছিলাম অনুবাদ হবে। এরকম ইংরেজি শিরোনামে লেখা দুটি মৌলিক বই হলো, মিনহাজুল ইসলাম মাসুমের ‘দ্যা প্রফেট এট এ গ্ল্যান্স’ এবং আবু জাকারিয়ার ‘ফরবিডেন প্রফেসিস’ (তবে দুটিই পুরুষের লেখা)।
২। প্রাণের চেয়ে প্রিয়, লেখক ফারহীন জান্নাত মুনাদী।
৩। অতুলনীয় হযরত মুহাম্মদ (স.), লেখক শামীমা শাহীন
৪। আপনি আমার শুদ্ধতম প্রেম, লেখক রুকাইয়া মাবরুরা
চাইলে আপনি ড. আয়িশা আবদুর রহমানের লেখা ‘নবী প্রেয়সী’কেও এই তালিকায় রাখতে পারেন।
সমকালীন লেখকদের মধ্যে মুসা আল হাফিজের ‘রাসুলুল্লাহ’ প্রথম পছন্দে রাখার মতো। তবে আমি বলব সৈয়দুল হকের ‘প্রশংসিত’র কথা—বাংলা সিরাত সাহিত্যে এটি অনন্য সংযোজন। এর পরই থাকবে আরিফুল ইসলামের ‘সিরাজুম মুনির’ (ফররুখের ‘সিরাজাম মুনীরা’র কথা মনে পড়ে। সাইয়েদ আমীমুল ইহসানেরও একটা বই আছে এই নামে। অধমের অনুবাদে জিয়াউর রহমান ফারুকির একটা বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছিল একই শিরোনামে)। এই তালিকায় আরেকটি বই হলো শব্দশৈলী থেকে আসা হাসান রউফুন রচিত ‘মহানবির যুদ্ধজীবন’।
শুধু একটি বই আছে কবিতার—হাসান রোবায়েতের ‘মোহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’। অনবদ্য, অপূর্ব। সিরাত বলে নয়, কবিতার স্বাদ আপনার জিভে লেগে থাকবে বহুদিন।
সমকালীন ও প্রাচীন স্কলারদের বেশ কয়েকটি অনুবাদ পাঠের তালিকায় রাখার মতো।
১। ড. ইয়াসির ক্বাদির লেকচার সিরিজে মুগ্ধ হয়ে তড়িৎ-প্রকৌশলী মাহমুদ হোসেন অনুবাদ করেছেন ‘মহানবি মুহাম্মদের (সা) জীবন ও সময়’ শিরোনামে। এটি প্রথম খণ্ড, আরও দুই খণ্ড আসবে।
২। ড. তারিক রমাদানের ফুটস্টেপস অব প্রোফেট স.। এত দারুণ অনুবাদ হয়েছে এই বইটির, মনে হয় রমাদান নিজে বাংলায় বলছেন।
৩। ড. মাজিদ আলী খানের ‘মুহাম্মাদ দ্যা ফাইনাল মেসেঞ্জার’। দশ বছর আগে এটা ইফা থেকে ‘শেষ নবী’ নামে বেরিয়েছিল, প্রচারের অভাবে বইটার কথা লোকজন জানতেই পারে নি।
৪। সিরিয়ান খ্যাতিমান স্কলার উস্তাদ ড. নুরুদ্দিন ইতরের পুস্তিকা ‘নবি জীবনের সুরভিত পাঠ’।
৫। সিরিয়ার আরেক শায়খ সাইদ রমাদান বুতির ‘ফিকহুস সিরাহ’ তো অতুলনীয় এক গ্রন্থ। এই বইয়ের অনুবাদ প্রকাশ পাওয়া বাংলাভাষীদের জন্য এক বিরাট প্রাপ্তি মনে করি।
এ ছাড়া আমাদের পূর্বসূরিদের কয়েকটি বই নজর কাড়ার মতো। হতে পারে এর সবগুলো আমরা ইতোমধ্যে ছাত্রজীবনে উর্দু বা আরবিতে পড়েছি, বাংলায় নতুন করে পেলাম।
১। ইমাম নববির ‘সিরাতুন নবী’।
২। ইদরিস কান্ধলবির ‘সিরাতে মুস্তফা’।
৩। সাইয়েদ সুলাইমান নদবীর ‘পয়গামে মুহাম্মাদী’।
৪। আবুল হাসান আলী নদবীর ‘নববি চরিত্রের সৌন্দর্য’। (সহলেখক রাগিব সারজানি)
৫। কাজী জায়নুল আবিদিনি মিরাঠির ‘আরবি নবি’। (সহলেখক প্রিন্সিপাল হাবীবুর রহমান)
৬। শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহর ‘প্রিয় নবীজি’।
একটি বই আছে অমুসলিম লেখকের—‘আরবের নবি’। স্বামী লক্ষণ প্রসাদ রচিত এই বইয়ের ভূমিকা মাসিক আল কাউসার পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল এবং অধমের পক্ষ থেকে এই বই রচনা নিয়ে বিস্তারিত আলাপ নিশ্চয় আপানারা শুনেছেন।
বিষয়ভিত্তিক কয়েকটি বই আছে—এ-ক্ষেত্রে সবার উপরে থাকবে ‘সিরাতের প্রচলিত ভুল’ বইটি। যদিও এতে ঠিক ভুল নয়, কোথাও অপ্রচলিত, কিংবা বিতর্কিত, অথবা বলায় যায়, যেসব ঘটনা নিয়ে প্রবলভাবে কেউ কেউ দ্বিমত করেছেন, তার সারাংশ তুলে এনেছেন লেখক মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল আওশান। এ ছাড়া আছে—
২। রাসুলুল্লাহর সাথে রোমাঞ্চকর একদিন (অধ্যাপক মফিজুর রহমান)।
৩। নববি তরবিয়ত : নবিজি যেভাবে সন্তান লালন পালন করেছেন (শায়খ জামাল আব্দুর রহমান)।
৪। বি জিনিয়াস উইথ মুহম্মাদ (আব্বাস মাহমুদ আক্কাদ)।
৫। খ্রিস্টান পাদরীর চোখে শেষ নবী (মাওলানা হাবীবুর রহমান কাসেমী)
৬। পরিবেশ ও স্বাস্থ্যবিজ্ঞানে মুহাম্মদ স. (আব্দুস সালাম মিয়া হুমায়ুন)।
৭। পারিবারিক সংকটে নবিজির উপদেশ (ড. ইয়াদ কুনাইবি)।
৮। লিডারশিপ লেসন্স : ফ্রম দ্য লাইফ অব রাসুলুল্লাহ স. ( মির্জা ইওয়ার বেগ)।
৯। মুহম্মাদ (স.) এর বৈজ্ঞানিক ও রাজনৈতিক দর্শন (মাহমুদুল হাসান নিজামী)।
১০। বিশ্বনবী (সা.) ও বিশ্বশান্তি (ড. মুহাম্মাদ মোস্তফা কামিল মাদানী)
সবিশেষ—একটি ছোট্ট বইয়ের কথা বলি : ‘রাসুলের জন্য ভালোবাসা’। আমার প্রিয় লেখক আলী তানতাভির রচনা। হৃদয় দিয়ে অনুবাদ করেছেন আহনাফ তাহমিদ।
কমেন্টে তালিকা দিলাম। উল্লেখযোগ্য আরও বই থাকতে পারে। জানাবেন—তালিকা আপডেট করে নেব।
©
1 220
নবিজীবনের বিভিন্ন অংশ নিয়ে রচিত গ্রন্থ। অজস্র বই আছে এই জনরায়। উদাহরণ হিসেবে কয়েকটা বইয়ের নাম বলি—
১. আলী সাল্লাবির লেখা ‘গাযওয়াতুর রসুল’। ‘নবীজির যুদ্ধ জীবন : পাঠ ও পর্যালোচনা’ শিরোনামে অনুবাদ করেছেন কাজী আবুল কালাম সিদ্দিক (আকিক পাবলিকেশন্স)
২. ফয়সাল বি আলী বাদানীর লেখা ‘হাকাজা কানা ন্নাবী স. ফি রমাদান’। ‘রাসূল যেভাবে রমজান যাপন করেছেন’ শিরোনামে অনুবাদ করেছেন কাউসার বিন খালেদ (ইসলাম হাউস)।
৩. সালেহ আল মুনাজ্জিদের লেখা ‘নবীজির সংসার’ (মূল নাম জানি না)। মাকতাবাতুল আসলাফ প্রকাশ করেছে।
৪. ইবনুল কায়্যিম জাওযির লেখা ‘আল্লাহর রসুল কিভাবে নামাজ পড়তেন’ (মূল নাম জানি না)। আবদুস শহিদ নাসিমের অনুবাদ (বর্ণালী বুক সেন্টার)।
৫. মাওলানা মুস্তফা খন্দকার সঙ্কলিত ‘নবিজির বয়ান’। মাকতাবাতুল ইসলাম।
৬. বুলবুল সরোয়ার লিখিত ‘নবিজীবনের শত বিষয়’। চমনপ্রকাশ।
পাঁচ. নবিজীবনের বিশ্লেষণ।
মানে নবিজির বিভিন্ন এক্টিভিটি আধুনিক সময়ের ভাষায় বিশ্লেষণ। যেমন—হিশাম আওয়াদির ‘বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মাদ’ (মাসুদ শরীফের অনুবাদ), রামাজান বুতির ‘ফিকহুস সিরাহ’, তারিক রামাদানের ‘ফুটস্টেপ অব প্রোফেট’, মির্জা ইওয়ার বেগের ‘লিডারশিপ লেসন্স’ ইত্যাদি। সবগুলো একই নামে অনুবাদ আছে। মোহর আলীর ‘সিরাতুন্নবি অ্যান্ড দ্যা ওরিয়ান্টালিস্ট’ (ইফা থেকে প্রকাশিত ‘সীরাত বিশ্বকোষ’ ৮ ও ৯ নং খণ্ড এই বইয়ের অনুবাদ)। আবার ধরেন অমুসলিমদের রচিত বিভিন্ন বই আছে, যেমন ক্যারেন আর্মস্ট্রং বা লেইজলি হ্যাজেলটনরা যা লিখেছেন।
এ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের এক্সপেরিমেন্টাল বইপুস্তক তো আছেই। মওলুদুন্নবি টাইপের এক ধরনের বই আছে, ওগুলো নিয়ে বলব না। নবিজিকে নিয়ে বিভিন্ন কাব্যগ্রন্থও আছে—কাজী নজরুল ইসলামের ‘মরুভাস্কর’ বা ফররুখ আহমদের ‘সিরাজাম মুনীরা’—যার কোনওটা ধারাবাহিক জীবনীর মতো, আবার কোনওটা পুঁথির মতো। আবার শিশু-কিশোরতোষ সিরিজের বই আছে, যেমন—
১. আবু তাহের মিসবাহ লিখিত ‘শিশু সীরাত সিরিজ’। দারুল কলম থেকে প্রকাশিত।
২. ইয়াহইয়া ইউসুফ নদভি লিখিত ‘প্রিয় নবী’। মাকতাবাতুল আশরাফ থেকে প্রকাশিত।
৩. আবদুল আযীয আমান লিখিত ‘একগুচ্ছ কিশোর-সীরাত সাহিত্য : নবীজীবনের নিউক্লিয়াস’। বইকেন্দ্র থেকে প্রকাশিত।
কেউ যদি নবিজিকে প্রথম থেকে জানতে চান, তাহলে উপরের ধরনগুলো পাঠের ধারবাহিকতা মনে করেও পড়তে পারেন। মানে প্রথমে এক নম্বরের বইগুলো ধরেন। তবে একেবারে নতুন হলে প্রথমে সংক্ষিপ্ত সিরাত গ্রন্থ পড়া যেতে পারে। ২টি সংক্ষিপ্ত সিরাত বইয়ের নাম দিচ্ছি—
১. জুবাইর আহমদ আশরাফ লিখিত ‘সংক্ষিপ্ত সিরাত’। দারুত তিবয়ান।
২. মুসা আল হাফিজ লিখিত ‘মহানবীর জীবনপঞ্জি।
এরপর পূর্ণাঙ্গ সিরাতগ্রন্থ পড়ুন। এরপর শামায়েল ধরুন। ‘ব্যক্তি ও নবী’ পড়ুন। এরপর ‘ফিকহুস সিরাহ’ পড়ুন। এই পর্যায়ে এসে একটা বইয়ের কথা বলি, যেটা উপরে বলা হয় নি, ড. ইয়াসির কাজির সিরাত লেকচারের অনুবাদ ‘মহানবি মুহাম্মদের (স) জীবন ও সময়’ (মাওলা ব্রাদার্স)—দুই খণ্ডের এই বইটা পড়ুন। সর্বশেষে পড়ুন অন্যান্য বিশ্লেষণ নির্ভর গ্রন্থ।
সবশেষে—প্রকাশকদের যারা সিরাতের ভালো কী বই অনুবাদ করানো যায় বলে ভাবেন, তাদের জন্য ২টি বইয়ের নাম বলি (প্রাচীন ২টা গ্রন্থের নাম বহুবার বহু জায়গায় বলেছি : মুসা ইবনে উকবার ‘মাগাজি’ আর ইবনে আবদিল বার-এর ‘আল মুখতাসার’। এই সময়ের জন্য ভিন্ন ২টি বইয়ের কথা বলছি)—
১. আকরম জিয়া উমরির লেখা : السيرة النبوية الصحيحة، محاولة لتطبيق قواعد المحدثين في نقد روايات السيرة النبوية
২. মাহদি রিজকুল্লাহর লেখা : السيرة النبوية في ضوء المصادر الاصلية
উপরের বইগুলোর চেয়ে ভালো বই, দরকারি বই, উন্নত বই অনেক থাকতে পারে। কিন্তু অধমের জানাশোনা মতে প্রকাশনার মান, সহজপাঠ্য, সহজবোধ ও সহজলভ্য যে-বাংলা বইগুলো প্রথম পর্যায়ে পাঠকদের বলা যায় বলে মনে হয়েছে, সেগুলো বললাম।
আল্লাহ তাওফিকদাতা।
©
1 220
কোনটা পড়ব, নবিজির স. কোন জীবনীটা ভালো—এই প্রশ্নটা প্রায়ই শুনি। একেক সময় একেকজনকে একেক বইয়ের কথা বলি। আসলে প্রশ্নকর্তার অবস্থা বুঝে বলি, তার আগ্রহটা কোন দিকে সেটা ভেবে জানাই। কিন্তু যে-কথাটা মুখ ফুটে তাকে বলতে পারি না, সেটা আজ বলছি।
আমার মনে হয়, কোন জীবনীটা ভালো, কোনটা পড়ব—তার আগে নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত, আমি নবিজীবনী কেন খুঁজছি। তার ধারাবাহিক জীবনী জানতে? তিনি কেমন ছিলেন সেটা জানতে? তার মোজেযা বা অলৌকিক ঘটনাবলি জানতে? নাকি আরও গভীর কিছু?
জটিল মনে হচ্ছে? আরেকটু সহজ করি। নবীজিকে জানার মোটাদাগে ৫ ধরনের বই আছে। বাংলাভাষী প্রাইমেরি স্টেজের পাঠকদের উদ্দেশ্যে ধরনগুলো বলছি। অধমের পরামর্শও থাকছে।
এক. নবিজির স. ধারাবাহিক জীবনী।
এটাকে বলে ‘সিরাত’। একসময় বলা হতো ‘মাগাজি’ বা ‘সিয়ার’। নবিজির স. জন্মপূর্ব সময়, জন্ম ও বংশ পরিচয়, বেড়ে ওঠা, বিয়ে, নবুয়ত, মক্কাত্যাগ, মদিনা, সন্ধি, যুদ্ধ, মক্কা বিজয়—এরকমভাবে যেগুলো লেখা। যদি এসব জানা আপনার উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, তাহলে আপনি পড়তে পারেন নীচের যে-কোনওটি —
১. সফিউর রহমান মোবারকপুরির লেখা ‘আর রাহিকুল মাখতুম’। মীযান হারুন (দারুল হুদা কুতুবখানা) অথবা কাজী আবুল কালাম সিদ্দিকের (আয-যিহান পাবলিকেশন) অনুবাদ পড়তে পারেন।
২. আবুল হাসান আলি নদভির লেখা ‘নবীয়ে রহমত’। বাংলায় সম্ভবত একটা অনুবাদই আছে (মাকতাবাতুল হেরা)।
৩. মওলানা আবুল কালাম আজাদের লেখা ‘রসুলের রহমত’। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অনুবাদ।
৪. মাজিদ আলী খানের লেখা ‘মুহাম্মাদ দ্যা ফাইনাল মেসেঞ্জার’। গার্ডিয়ান এর একটা অনুবাদ নতুন প্রকাশ পেয়েছে। ‘শেষ নবী’ নামে ইফার একটা অনুবাদও আছে।
উপরের সবগুলো বিদেশি লেখকদের লেখা। আপনি যদি বাংলাভাষায় লেখা বাংলাদেশি কারও নবিজীবনী স. খোঁজেন, তাহলে শুধু একটা গ্রন্থের কথা বলব—শাইখুল হাদিস মাওলানা মুহম্মদ তোফাজ্জল হোসাইনের লেখা ‘হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (স) সমকালীন পরিবেশ ও জীবন’ (ইসলমিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ)। বইটা কি এখন পাওয়া যায়?
দুই. ব্যক্তি নবি সম্পর্কিত বই।
মানে, নবিজি যেমন ছিলেন। এটাকে বলে ‘শামায়েল’। এটা আবার দুই রকমের হয়।
প্রথমতঃ মানে নবিজি দেখতে কেমন। নবিজির হাঁটাচলা কেমন, তাঁর হাসি কেমন, কান্না কেমন, তাঁর দৈহিক গঠন আকৃতি কী ধরনের, তার চুলের ধরন, হাত-পায়ের গড়ন কেমন, তার ঘামের গন্ধ, তার খাওয়া-ঘুম ইত্যাদি। এই প্রকারে তার আত্মীয় ও পরিবারবর্গের ইতিহাসও অনেক লেখক নিয়ে আসেন। মানে একান্ত মানুষ ও ব্যক্তি মুহাম্মাদ স.।
*তিরমিজি শরিফের লেখক ইমাম তিরমিজির লেখা ‘শামায়েলে তিরমিজি’ এ-বিষয়ক বিখ্যাত গ্রন্থ। বাংলায় মুফতী তাওহীদুল ইসলামের অনুবাদটা (আশরাফিয়া বুক হাউস) নিতে পারেন।
দ্বিতীয়তঃ শামায়েল গ্রন্থকারকগণ প্রথম দিকে কেবল নবীজির দৈহিক বৈশিষ্ট্য দিয়ে নবিজির প্রকৃতি তুলে ধরার চেষ্টা করতেন। পরবর্তী সময়ে আরও বিস্তৃতি আকারে তাঁর ইবাদত-বন্দেগি, বিনয়-কোমলতা—এভাবে ব্যক্তিজীবনের অন্যান্য দিক তুলে ধরা হতে থাকে। তার নামাজ, তাকওয়া, আখলাক থেকে নিয়ে মানুষের সঙ্গে কিংবা স্রষ্টার সঙ্গে তার আচরণ কেমন ছিল, সেসবের সঙ্কলন থাকে এখানে।
দুইটা দিককেই অন্তর্ভুক্ত করেছে, এরকম ২টা বইয়ের কথা বলব—
১. সালেহ আহমদ শামীর লেখা ‘মিন মায়িনিশ শামায়িল’। ‘ব্যক্তি ও নবী’ নামে আকিক পাবলিকেশন্স থেকে অনুবাদ এসেছে।
২. আদিল সালাহির লেখা ‘মুহাম্মাদ : ম্যান অ্যান্ড প্রফেট’। বাংলাটা আবু জাফরের অনুবাদে ‘মানুষ ও রসুল মুহাম্মাদ’ নামে খোশরোজ কিতাব মহল এনেছে।
শুধু দ্বিতীয় প্রকারে যারা আগ্রহী, তাদের জন্য বলব ২টা বইয়ের নাম—
১. রাগিব সারজানির লেখা ‘উসওয়াতুল লিল আলামিন’। একই নামে শামীম আহমাদ অনুবাদ করেছেন (মাকতাবাতুল হাসান) এবং ‘নবীজি : যার আদর্শে বিমোহিত পৃথিবী’ নামে আরেকটি অনুবাদ বের করেছে মুহাম্মদ পাবলিকেশন। যেটা খুশি নিতে পারেন।
২. সালেহ আল মুনাজ্জিদের লেখা ‘কাইফা আমালাহুম’। বাংলায় ‘যেমন ছিলেন তিনি’ নামে রুহামা পাবলিকেশন এটি ২ খণ্ডে প্রকাশ করেছে।
তিন. নবিজির মুজিযা সম্পর্কি বই।
মুজিযা মানে অলৌকিক ঘটনাবলি। এই জনরা একসময় বেশ পপুলার ছিল। এটাকে ‘দালায়িলুন নবি’ ক্যাটাগরিতে আনা হয়। ২টা বইয়ের নাম বলি—
১. জালালুদ্দিন সুয়ুতির লেখা ‘খাসায়েসুল কুবরা’। মাওলানা মুহিউদ্দীন খান এটার বাংলা অনুবাদ করেছেন (মদিনা পাবলিকেশান্স)।
২. মাওলানা হাবীবুর রহমানের লেখা ‘লামিয়াতুল মুজিজাত’। লেখক দেওবন্দের অধ্যক্ষ ছিলেন। কওমি মাদরাসায় এই বইটি পাঠ্য। কাব্যকারে লেখা নবিজির ১০০ মুজিযা এখানে সন্নিবেশিত হয়েছে। মাকতাবাতুল ফাতাহ, ইসলামিয়া কুতুবখানা, আল কাউসার প্রকাশনী এর বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করেছে।
চার. বিষয়ভিত্তিক জীবনালেখ্য।
1 220
সিরাত পড়তে গিয়ে কিছু প্রশ্ন মনের মধ্যে ঘুরপাক খায়। এমন প্রবাদসম বিষয় সেসব যে, কাউকে কখনো প্রশ্নই করা হয়নি। লজ্জায় পড়েও হতে পারে, অথবা নিজের মত করে সেসবের কল্পনা করতে পারার কারণেও হতে পারে, অথবা ওইসব হলো নবীদের ব্যাপার-স্যাপার ভেবেও হতে পারে।
ধরুন প্রশ্ন করা হলো, খন্দকের যুদ্ধে নবীজি যে ক্ষুধায় পেটে পাথর বেঁধেছেন, কিভাবে বাঁধলেন? পাথর বাঁধলে কী হয়? অথবা আরও আগের কথা ধরুন, ২৫ বছরে নবীজির বিয়ে হলো তারপরে ৪০ বছরে নবুয়ত—এই ১৫ টা বছর তার কিভাবে কাটল? অথবা বিয়েটা যে হলো, খাদিজার সাথে, তার সঙ্গে প্রথম পরিচয়টা কী করে ঘটল, বিয়েটা পাকাপোক্ত হলো কী করে, কোন ভাষায় খাদিজা তাকে প্রস্তাবটি দিয়েছিলেন?
কিংবা আরও একটু আগে যাই। চাচার সঙ্গে সিরিয়ায় যাওয়ার পথে ওই যে বাহিরা পাদ্রীর সঙ্গে দেখা হলো, তিনি বললেন, তাকে নিয়ে যাও ফিরে যাও, ইহুদিরা দেখলে হত্যা করে ফেলবে। চাচা ভয়ে ফিরে এলেন। তাহলে সেই সিরিয়াতে আবার তিনি কিভাবে খাদিজার পণ্য নিয়ে গেলেন?
মাজিদ মাজিদির 'মেসেঞ্জার অব গড'- দেখলাম, জন্মপূর্ব থেকে শুরু করে পুরো কিশোরকালটা ইহুদিরা নবীজিকে তন্ন তন্ন করে খুঁজেছে। কেন?
অথবা প্রশ্ন করা হলো, হিরাক্লিয়াস কে আসলে? কিংবা জানতে চাওয়া হলো, বাবা মারা যাওয়ার কারণে নবীজির দাদা আব্দুল মুত্তালিব তার অভিভাবক হলেন, তারপর হলেন তার চাচা আবু তালিব। তো তারা না হয় বাইরে মাথার ছাতা হয়ে খরচ সামলেছেন শক্তি যুগিয়েছেন, কিন্তু আব্দুল মুত্তালিবের ঘরে নিশ্চয়ই তাঁর স্ত্রী অর্থাৎ নবীজির দাদী ছিলেন, আবু তালিবের সহধর্মিনী অর্থাৎ নবীজির চাচী ছিলেন। তারা কারা? নবীর জীবনের সঙ্গে তাদের কি কোনও যোগসূত্রই নেই?
অথবা আব্দুল মুত্তালিব কী করে মুত্তালিবের গোলাম পরিচয়ে বেড়ে উঠলেন, নেতা হলেন কেমনে? অথবা হুদায়বিয়ার সন্ধিতে কেন বনু-খুজাআ মুসলিমদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলো? অথবা একদলকে হাবশায় পাঠিয়ে মদিনাতেই কেন নবীজি হিজরত করলেন, সেখানে জাগতিক শক্তিগুলো কিভাবে তাকে সহযোগিতা করেছে?
অথবা... আচ্ছা, থাক...
আমার মাঝেমধ্যে এইসব প্রশ্ন জাগে। টুক টুক করে খুঁজতে খুঁজতে একটু আধটু উত্তর পাই। যেমন আবদুল হামিদ তহমাজের লেখা একটা অনুবাদ বই পড়ছি, নবীপত্নী মহীয়সী খাদিজা—অনেক প্রশ্নের উত্তর পেয়েছি।
খুঁজছি নিরন্তর...
©
1 220
তাবলিগে যাওয়ার আগে প্রতিবার দুইটা বিষয় খেয়াল রাখতাম: বেডিং যেন একটা হয় আর পছন্দের বই যেন সঙ্গে থাকে। তো সেবার শ্যামনগর যাওয়ার সময় দুইটা বই সঙ্গে নিলাম। এক. হুমায়ুন আহমেদের প্রথম পাঁচটি উপন্যাসের সঙ্কলন। দুই. আর রাহিকুল মাখতুম। পড়ার সময় খুব একটা পাওয়া যায় না। তা ছাড়া রমজান মাস তো, দিন কেমনে কেমনে যে ফুরিয়ে যায়, টের পাই না। তবু ঠিক ঠিক দুইটা টাইম বের করে ফেললাম। বাদ মাগরিব আর বাদ ফজর বয়ানের পর।
কাউসার ভাই’র কথা মনে পড়ে। চারুকলার ছাত্র ছিলেন। হুট করে তাবলিগে এসেছেন। খুবই আড্ডাপ্রিয় আবার একই সঙ্গে পরহেজগার মানুষ। একটু পর পর এসে কুরআনের দুটি আয়াত শিখে যান, আর সারাক্ষণ আবৃত্তি করতে থাকেন। এভাবে সেই চল্লিশ দিনে তিনি পুরো সুরা ইয়াসিন আর আর-রহমান মুখস্ত করেছেন।
কিন্তু আড্ডা তো লাগবে। আমি অবসরে একটু লিখতে বা পড়তে নিলে তার গা জ্বালা করত। চারপাশে ঘুরে ঘুরে তিনি খুঁজে বের করতেন আকর্ষণের প্লেস। ওয়াপদার পুকুর থেকে কলসি ভরে খাবার পানি নেয় এখনও, কোথায় একটা সরকারি পাঠাগার আছে পেপার পড়ার ইত্যাদি। একদিন মাগরিবের পর বই নিয়ে বসেছি, কী করণে সেদিন মনটা খুব ভার, তিনি টানতে টানতে নিয়ে গেলেন ‘কফি হাউজ’ নামের একটা দোকানে। আক্ষরিক অর্থে মান্না দে’র গানের মতো লম্বা বেঞ্চিতে বসে আড্ডা জমে উঠল। এলাকার তাবলিগপ্রিয় মাদরাসার ও কলেজ শিক্ষার্থীরাও যোগ দিলেন।
এমন হলো যে, আমাদের জামাতের রোখ যে মসজিদেই হোক, মাগরিবের পরে সবাই এসে কফি হাউজে হাজির। সারাদিনের ক্লান্তি, দমবন্ধ ভাপ গল গল করে বেরিয়ে আসত কারগুজারি হয়ে। সম্পর্কটা এতদূর গিয়েছে যে, বিদায়ের আগের দিন এলাকার সমবয়সীরা আমাদের ফেয়ার ওয়েল দিলেন। পানীয় হয়ে আসল মোজো, তখনও নতুন, ২ লিটারের বোতলের ছিপি খুলতে গিয়ে শ্যাম্পেনের ক্যান খোলার মতো ফস ফস করে দুই লিটার পানীয়র উত্থান মোস্তাফিজ ভাইকে গোসল করিয়ে দিল।
আর-রাহিকুল মাখতুম (The Sealed Nectar)। মানে সহজে বললে ছিপিআঁটা সুধা। একটা বেহেশতি পানীয়, যার গায়ে অরিজিনাল লেবেল লাগানো এবং ছিপি এখনও খোলা হয় নি। এমন নাম কীভাবে একটা নবীজীবনীর হয়, সেটা তখনও ভালো বুঝি না। মীযান হারুনের অনুবাদ, দারুল হুদার, এক রকম ঝোঁকের বশেই বইটা সঙ্গে নিয়েছিলাম। নবীজীবনী পড়ার স্বাদ একটু আধটু পাওয়া শুরু করেছি মাত্র। আমার ভালো ঘুম হতো না। তো বাড়ির একজন তাবিজ-কবজ দেওয়া হুজুর বলেছিলেন, কোনও বুজুর্গের জীবনী পড়তে পড়তে যেন ঘুমাই। তো চিন্তা করলাম, নবীজির সা. চেয়ে বড় বুজুর্গ আর কে? তার জীবনীই পড়ি। সেই হিসেবে সিরাতে খতামুল আম্বিয়ার উর্দু ভার্সনটা সঙ্গে রাখতাম। পড়তে মজা লাগত। ঘুমও হতো।
কিন্তু রাহিক পড়া শুরু করার পর মনে হলো, নবীজীবনের ধারণা একেবারে বদলে গেলো। বুকের ভেতরটা নড়ে উঠল। মনে পড়ে, শ্যামনগর থানা মসজিদের দোতলায় গভীর মনোযোগে পড়ছি। পাশে কাউসার ভাই তাড়া দিচ্ছেন, শায়েখ, চলেন, সবাই বসে আছে। আমি তখন তন্ময়। অন্ধকার যুগের বর্ণনার ফাঁকে ফাঁকে কোরআনের আয়াত দেখে হতবাক। তখনও তো ওহি আসে নাই, কোরআন নাজিল হয় নাই। কিন্তু লেখার ভঙ্গিতে মনে হলো, আগেই নাজিল হয়ে গেছে। আল্লাহর এলেমে যে সবই আছে এবং সেই দিকে ইঙ্গিত করে পরে কী সুনিপুণ চিহ্ন উল্লেখ করেছেন নবির কাছে তিনি, একেবারে হতভম্ব হয়ে গেলাম। কাউসার ভাই দেখেন যে, বই রেখে আমি উপরে দিকে তাকিয়ে আছি।
পুরো বইটা আমাকে কফি হাউজের আড্ডার মতো তৃপ্তি দিচ্ছিল। একটা থ্রিলারের মতো রোমাঞ্চ অনুভব করছিলাম। রমজানে ঘুমের সময় কম। কিন্তু বনু কুরাইজার ঘটনাটা না জেনে ঘুমাতে পারছিলাম না। কেবল শরহে জামি শেষ করেছি, ফিকহের এখতেলাফ ছাড়া লেখাপড়ায় আর কোনও সাসপেনশন তো পাই নাই। কিন্তু রাহিকের ভাঁজে ভাঁজে হাদিসগুলো মনে হলো দীপশিখার মতো জ্বলে জ্বলে উঠছে। আয়াতগুলো মনে হতো, ঠিক ঠিক মর্মসহ বুঝতে পারছি। অনুবাদ পড়ছি, নাকি আরবি, ভাষার আড়াল কাজই করছিল না।
তাবলিগের সেই দিনগুলোতে হুমায়ুনের বই থেকে নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার, অচিনপুর, নির্বাসনের মতো মাতাল করা মধ্যবিত্ত বাঙালির গল্প পড়েছি ঠিকই, কিন্তু রাহিক পাঠের অভিজ্ঞতা ছিল অনন্য। হুমায়ুন যেন শীতের রৌদ্রতপ্ত দুপুরের মতো কাঁটা কাঁটা তাপ, আর রাহিক ছিল দিনভর খুসুসি গাশতে ক্লান্ত হয়ে ফিরতি পথে পাওয়া ঠাণ্ডা লেবুর শরবত। খাব্বাবের ত্যাগ, মুয়াজ ইবনে জাবালের কাহিনি, আবু জান্দালের শেকল ছেঁড়া আকুতি, সঙ্গীদের প্রতি মহানবির সা. নিবেদন আমাকে এত কাঁদিয়েছে যে, প্রতিটা অধ্যায় পাঠের পরে মনে হতো পবিত্র দেহমন আরও পবিত্র হচ্ছে। কান্না বেশি পেলে বই রেখে দুই হাত তুলে মোনাজাতের ভান করতাম, যেন কাউকে চোখের পানির কৈফিয়ত দিতে না হয়।
আমি মীযান হারুনের আর কোনও বই পড়ি নাই। কোনও অনুবাদও না। কিন্তু রাহিকের অনুবাদ তিনি ছাড়া আর কাউকে ভাবতেও পারি না। এরপর ছোট্ট জীবনে আরও অন্ততঃ হাজারখানে নবীজীবনী বা তাঁর জীবন বিশ্লেষণ পড়েছি,। বিশ্বব্যাপী সিরাত রজাপথের কত শত গলিঘুপচি ঘেঁটেছি, কিন্তু আর-রাহিকুল মাখতুম আমার কাছে আজও ক্লান্ত পথের পাশের আলো ঝলমলে কফি হাউজ।
©
1 220
মানুষ অন্তরে যা-কিছুই গোপন রাখে, আল্লাহ তাআলা চেহারার অবয়বে কিংবা মুখের ভাষায় তা প্রকাশ করে দেন।
-উসমান ইবনে আফফান রা.
1 220
রাহনুমা প্রকাশনী বেশ ভালো অফার দিচ্ছে এই মাসে। তাদের অনেকগুলো দারুণ দারুণ কাজ আছে। সেখান থেকে কিছু বইয়ের নাম দিচ্ছি, যেগুলো চাইলে আপনি সংগ্রহ করতে পারেন।
তাফসীরে উসমানী ১-৩
নূরের পর্বত থেকে সবুজ গম্বুজ
কিশোরদের প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
মুহাম্মদ দি গ্রেটেস্ট
সুখময় জীবনের সন্ধানে
নবীজি সা. কেমন ছিলেন
সাহাবায়ে কেরামের ঈমানদীপ্ত জীবন ১-২
তাবেঈদের ঈমানদীপ্ত জীবন
দুনিয়াবিমুখ শত মনীষী
সীরাতে আমিরে মুয়াবিয়া
আকাবিরে উলামায়ে দেওবন্দ : জীবন ও অবদান
ফিরে এসো নীড়ে
হিসনে হাসিন
সফরে হিজায
ইসলামী জীবনের রূপরেখা
ঈমান ও বস্তুবাদের সংঘাত
দৈনন্দিন জীবনে ইসলামের বিধান
দশ লেখক দশ জীবন
কুরআনের বর্ণনায় শয়তান : পরিচয় ও পরিত্রাণ (আন্ডাররেটেড বই)
বড় যদি হতে চাও
প্রিয় লেখক প্রিয় বই
মুসলিম নারীদের বীরত্বগাথা
ইতিহাসের কান্না
কুরআন অনুধাবন : মূলনীতি ও নির্দেশনা (একাধিক প্রকাশনী ছেপেছে)
মরণজয়ী মহীয়সী
সীরাতে আয়েশা
ফাতেমাতুয যাহরা
গল্পে আঁকা মহীয়সী আমিনা
দেশে বিদেশে
সমাজ সংশোধনের দিকনির্দেশনা
নারী সাহাবীদের ঈমানদীপ্ত জীবন
গল্পে আঁকা মহীয়সী খাদিজা
মৃত্যুশয্যায় শয়তানের ধোঁকা
আল্লাহর পরিচয়
1 220
ফেইসবুকে একটা সময় অনেক ভাই-ই সুন্দর সুন্দর ধর্মীয় লেখা লেখতেন। কেউ ছিলেন লেখক। কেউবা দাঈ।
আস্তে আস্তে প্রায় সবাই হারিয়ে গেলেন। কেউ এক্সপোজ হলেন। কেউ নিজেকে গুটিয়ে নিলেন। কেউবা পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে চাপায় এখন আর আগের মতো অবসর, ফুরসত পান না।
অনেকেরই নাম মনে নেই। তবে ভীষণ মিস করি আবদুল্লাহ আল মাসউদ ভাইকে, ইমরান রাইহান ভাইকে (যদিও টেলিগ্রামে ভালোই একটিভ, আগের সেই ধাঁচটা নেই), সাজিদ ইসলাম ভাই, মহিউদ্দিন রূপম ভাই, আব্দুল্লাহ মজুমদার ভাইসহ অনেককেই। রানিং সময়ে আম্মারুল হক ভাই দারুণ লিখছেন।
১৬/১৭ সালের দিকে পাঠক হলাম। সেই সময় অনেকেই প্রচুর পড়তেন। রিভিউ লেখতেন। সেই সময়ের তুমুল পাঠক সবাই হারিয়ে গেছেন। হারাননি, গুটিয়ে নিয়েছেন নিজেকে। কেউ পারিবারিক/সাংসারিক ব্যস্ততায় ব্যস্ত। কেউ ক্যারিয়ার গড়ায়। সেই পাঠকদের ভিড়ে শুধু রাশেদ ভাই প্রকাশনায় জড়িত থাকায় এখনো পাঠ চালিয়ে যাচ্ছেন। টুকটাক লেখালেখিও করছেন। নিজেও হারানোর তালিকায় এসে গেছি। যদিও এখনো অনলাইন ছাড়তে পারিনি।
সবারই একটা জায়গা মিল। সাংসারিক/পারিবারিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভেতরে অশান্তি, অস্থিরতা, ব্যস্ততায় সময় না পাওয়া।
মাঝে মাঝে ভাবি, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সমস্যা আগেকার যুগেও ছিল। প্রত্যেক যুগের মানুষ ভাবত তারাই সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে জঞ্জালপূর্ণ সময় কাটাচ্ছে। পারিবারিক ব্যস্ততা, পেরেশানিতে ডুবে গেছে। এতকিছু সত্ত্বেও সালাফ-আকাবিরগণ কীভাবে নিজেদের ইলম অন্বেষণ ও লেখালেখিতে মশগুল রাখলেন। বেশি দূরের না, আদীব হুযুর, হেমায়েত উদ্দীন সাহেব, যাইনুল আবিদীন সাহেবরা কীভাবে এত দারুণ দারুণ, ক্লাসিক বইটই লিখলেন!
